বিএনপির অত্যাচার জুলুম নির্যাতন সহ্য করেও রাজপথে দলীয় কর্মসূচিতে সরব ছিল কুমিল্লার ছেলে গাজী এমদাদ

ডেস্ক রিপোর্ট
কুমিল্লার কৃতি সন্তান গাজী এমদাদ জয় বাংলা সাংস্কৃতিক ঐক্য জোটের কুমিল্লা জেলা শাখার সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। একই সাথে তিনি কেন্দ্রীয় কমিটিতেও রয়েছেন। এছাড়া গাজী এমদাদ কিছু দিন পূর্বেই বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন দল বাংলাদেশ আ’লীগের কেন্দ্রীয় ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ গবেষণা পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করছেন তিনি। এছাড়া ঢাকাস্থ বৃহত্তর কুমিল্লা ছাত্র- যুব ঐক্য পরিষদের সভাপতি ও কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়ন যুব পরিষদের (ঢাকা) আহ্বায়ক, বঙ্গবন্ধু পরিষদের কেন্দ্রীয় সদস্য এবং ইন্টারন্যাশনাল অটিজম ফাউন্ডেশন” এর উপদেষ্টাও তিনি।

গাজী এমদাদের জন্ম ১৯৭৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর কুমিল্লা জেলার কাশীনাথপুর গ্রামে। তার পিতা আলী আশরাফ ছিলেন একজন সরকারি কর্মকর্তা।
খুব ছোট বেলা থেকেই গাজী এমদাদের ছিল বিভিন্ন সংগঠনের প্রতি বিশেষ জোক। সংগঠন প্রিয় এই বালকই আজকের একজন সফল সংগঠক। যেখানেই হাত দিয়েছেন পেয়েছেন সফলতা।
সংগঠন করতে করতেই আজকে হয়েছেন বাংলার অবিসংবাদিত নেত্রী, গণতন্ত্রের মানসকন্যা, দেশরতœ, জননেত্রী শেখ হাসিনার একজন আস্থাভাজন ভ্যানগার্ড।
সংগঠন প্রিয় এই তরুণ বালক বর্তমানে একজন সফল মুখ হিসেবে সকলের নিকট পরিচিত। রক্তে যার মিশে আছে সংগঠন তিনি কি আর থাকতে পারেন সংগঠন ছাড়া। ফলে জড়িয়ে পড়েন বিভিন্ন সংগঠনের সাথে। দায়িত্ব পালন করেছেন বিভিন্ন সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে বাংলাদেশ ফিলোসফিক্যাল স্টুডেন্ট এসোসিয়েশন এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও ইন্টারন্যাশনাল ফিলোসফিক্যাল স্টুডেন্টস এসোসিয়েশন এর এক্স জেনারেল সেক্রেটারী হিসেবে দায়ত্বি পালন করেছেন দীর্ঘদিন, এশিয়া এন্ড প্যাসিফিক স্টুডেন্টস এন্ড ইয়ূথস ওয়েলফেয়ার ফ্রন্টের যুগ্ম সম্পাদক, ইযূথ ফেডারেশন ফর ওয়ার্ল্ড পিস এর নির্বাহী সদস্য, ওয়ার্ম হার্ট এর নির্বাহী সদস্য, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জহুরুল হক হল শাখার সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি ও সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন এই ডানপিটে নেতা।
এক সময় পড়াশোনার পাশাপাশি সাংবাদিকতাও করেছেন। এবং লেখালেখির শুরু সেই ছোটকাল থেকেই। বর্তমানে তিনি দেশের প্রথম সারির বিভিন্ন জার্নালে লেখালেখি অব্যাহত রেখেছেন।
তাঁর ঝুলিতে রয়েছে কিছু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরষ্কার ও সাফল্য। এর মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ছাত্র ও যুব সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর ওয়েলফেয়ার অব দ্য স্টুডেন্টস এন্ড ইযূথ কর্তৃক ম্যান অব দ্য ইয়ার ২০০২ পুরষ্কার। ২০০৩ সালের ১৫ জানুয়ারি ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লীতে তাকে এ সম্মননা পদক তুলে দেয়া হয়। বাংলাদেশের অনগ্রসর যুব সমাজের কল্যাণে অনবদ্য অবদার রাখার জন্য তিনি এই সম্মানে ভূষিত হন।
এক প্রশ্নের জবাবে গাজী এমদাদ বলেন, ৯০ এর দশকে আমরা সবাই খুবই কঠিন সময়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের রাজনীতি করেছি, একদিকে সে সময়ের বিরোধী মত দমন-পীড়ন নীতি অবলম্বনকারী সরকার,সরকারী ছাত্র সংগঠন,তাদের পেটোয়া পুলিশ বাহিনী আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস পর্যন্ত করতে দেয়নি,পরীক্ষা দিতে যেতে পারিনি আমরা,হলে মারধরের শিকার হয়েছি,হল থেকে বিতাডিত হয়ে কখনও জগন্নাথ হল,কখনও মেসে বাজে পরিবেশে থাকতে হয়েছে,আমি নিজে জহুরুল হক হল হতে ৪ বার বিতাড়িত হয়েছি, বই- বেডিং পুডিয়ে দেয়া হয়েছে,আমার বহু গুরুত্বপূর্ণ লেখা হারিয়ে গেছে….এগুলোর মধ্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের উপর গবেষণাধর্মী বেশ কিছু লেখা ছিল, যেগুলোর জন্য কয়েকটি আন্তর্জাতিক পুরস্কার ও সম্মাননাও পেয়েছিলাম। উল্লেখ্য আমি সে সময় পড়ালেখা ও ছাত্রলীগের রাজনীতির পাশাপাশি সাংবাদিকতাও করতাম সে সময়ের কয়েকটি প্রতিষ্ঠিত দৈনিক পত্রিকায় নিয়োগ হতে বঞ্চিত হয়েছি নিজ বিভাগ হতেও। আমার মতো শিক্ষা বোর্ডের মেধা তালিকায় স্থান পাওয়া ছাত্র..যার অনার্স ১ম-২য় বর্ষের রেজাল্ট ছিল ঈর্ষনীয়, ফাইনাল ইয়ারে গিয়ে মৌখিক পরীক্ষায় আটকিয়ে দেয় সরকারের আজ্ঞাবহ শিক্ষক সমিতির সাদা দলের কতিপয় শিক্ষক। তাদের সাথে হাত মিলায় তথাকথিত বামধারার কয়েকজন সুবিধাবাদী শিক্ষক নামের কলংক। আমার ১ম শ্রেণী প্রাপ্তি আটকিয়ে দেয়,মাস্টার্সেও ওই একই চক্র সক্রিয় থাকায় মাত্র ৮ নাম্বারের কারনে বঞ্চিত হই ১ম শ্রেণি হতে। তবু সব কিছু সয়ে আমরা সবাই ঐ চরম দুঃসময়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের রাজনীতি করেছি জাতির পিতার আদর্শকে ধারণ করে,আমাদের প্রাণের নেত্রী,জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ভালবেসে। আজও দুচোখ অশ্রুসিক্ত হয়ে উঠে সে সময়ের করুণ ঘটনাপ্রবাহ মনে হলে। সেই দুঃসময়ের আমরা সবাই আজও রয়েছি মুজিবাদর্শ ধারণ করে,প্রিয় নেত্রী কে ভালবেসে। দলকে ভালোবেসে আঁধারে আলো জ¦ালাতে চান কুমিল্লার কৃতি সন্তান গাজী এমদাদুল হক।
এছাড়াও তিনি ৯০ এর গণঅভ্যূত্থানের সময় কুমিল্লায় সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রামের মিছিল হতে গ্রেফতার হন। ১৯৯১-১৯৯৬ এর ১২ জুন পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের রাজনীতির দুঃসময়ে সাহসী ভূমিকা পালন। ১৯৯৪ সালের জুনে ২৩,বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ কার্যালয়ের সামনে হতে গ্রেফতার হন। তদানীন্তন স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রাম,পুলিশি লাঠিপেটা,টিয়ারগ্যাসে চোখের ব্যাপক ক্ষতি হয়। হল হতে ৪ বার প্রতিপক্ষ সংগঠন ও গ্রুপ কতৃক বিতাড়িত হতে হয় তাঁকে। বই-পুস্তক, কাপড় – চোপড় পুড়িয়ে দিয়ে শারীরিকভাবে চরম লাঞ্চিত করে। ক্যাম্পাসে পরীক্ষা দিতে গিয়ে বাধাগ্রস্ত ও ভয়-ভীতির সম্মুখীন হন শুধুমাত্র ছাত্রলীগের রাজনীতি করার কারনে । জীবনবাজী রেখে ‘৯৪ এর ঢাকা সিটি মেয়র নির্বাচনে কাজ করা, জনতার মঞ্চে যোগদান, অসহযোগ আন্দোলনে অংশগ্রহণ,’ ৯৬ এর ১২ জুনের ঐতিহাসিক নির্বাচনে কুমিল্লা সদর ও ঢাকার প্রায় সব আসনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন রাজনীতির এই মেধাবী মুখ।
২০০১ এর প্রহসনের নির্বাচন পরবর্তী সময়ে আন্দোলন – সংগ্রামে প্রিয় নেত্রীর নির্দেশে রাজপথে অবস্থানসহ সকল দলীয় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন সক্রিয়ভাবে। ২০০৪ এর ২১ আগষ্টে ভয়াবহ গেনেড হামলার সময় নিহত ও আহতদের উদ্বার ও চিকিৎসা নিশ্চিতকরন নে কাজ করেন অবিরত।
২০০৭ সালের ১/ ১১ এর দলের চরম দুঃসময়ে দল ঘোষিত কর্মসূচি গুলোতে নিয়মিত অংশগ্রহণ করেন। প্রিয় নেত্রীকে গ্রেফতার ও গভীর ষড়যন্ত্র মূলক বিদেশে নির্বাসনে পাঠানোর বিরুদ্ধে সে সময়ের প্রবীণ নেতা প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জনাব জিল্লুর রহমান ও দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রয়াত সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের যৌথ নেতৃত্বে সামরিক বাহিনী সমর্থিত অবৈধ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েন। ২০০৮ এর ২৯ ডিসেম্বর এর নবম সংসদ নির্বাচন,পরবর্তীতে দশম ও সর্বশেষ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রাথীর পক্ষে নানা ভাবে প্রচারে অংশগ্রহণ করেন। এইসব ঐতিহাসিক ঘটনা সমূহকে ইচ্ছে করলেই কেউ অস্বীকার করতে পারবেনা। কেউ সামনের পথ চলাকে দাবিয়ে রাখতে পারবেনা। আজও প্রিয় নেত্রীকে ভালবেসে,তার গতিশীল ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বের প্রতি আস্থা জ্ঞাপন করে, দেশের উন্নয়ন এর চালিকাশক্তিকে আরও বেগবান করার প্রত্যয়ে এবং সর্বোপুরি জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যাশায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সকল গণতান্ত্রিক ও নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচিতে সক্রিয় রয়েছেন এবং থাকবেন বলে সকলের অব্যাহত সমর্থন, দোয়া,ভালবাসা ও সহযোগিতা কামনা করেন এই নেতা।